সিজারের ছবি তুলে ফেসবুকে প্রকাশ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক নারীর সন্তান জন্মদানের সময় সিজার করার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক দেন মাতৃছায়া হাসপাতালের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রহমান তুহিন। এরপর থেকে গত দুইদিন ধরে এ নিয়ে এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসন্তোষ ও সমালোচনার চলছে। জানা যায়, গত রোববার এক গর্ভবতী নারী প্রসব বেদনা নিয়ে রায়পুরের মাতৃছায়া হাসপাতালে ভর্তি হন। রাতে চিকিৎসকরা ওই নারীর সিজার করা শুরু করেন। এ সময় হাসপাতালের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে অস্ত্রোপচারের সময় কয়েকটি ছবি তোলেন। অথচ তিনি চিকিৎসক নন। পরে ওই ছবিগুলো তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন। ওই ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছবি আপত্তিকর বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনগতভাবে এটি অপরাধ। কর্তৃপক্ষ তো দূরের কথা, অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তার ও নার্স ছাড়া স্বজনরাও থাকতে পারে না। তাছাড়া কোনো প্রসূতির অনুমতি ছাড়া ছবি তোলারও নিয়ম নেই। সেটি ফেসবুকে দেওয়া চরম অন্যায়।’ ফেসবুকে অনেকে এ ঘটনায় দোষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবিদ হাসান তুরছয় নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে লিখেন, ‘কোনো প্রসূতি মহিলার অপারেশন থিয়েটারে অপারেশন চলাকালীন সময় কর্তৃপক্ষ উপস্থিতি থাকতে পারে না। এটা পেশাদারিত্ব ও নিয়মনীতির পারিপন্থী। ছবি তুলে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা নজিরবিহীন ঘটনা।’ এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুর রহমান তুহিন বলেন, ‘মহামারি করোনার সময় মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য এই ছবি তুলে পোস্ট করা হয়েছে। প্রসূতির মুখের ছবিটি কীভাবে চলে আসে তা আমার জানা নেই। তবে কয়েকজন এই ছবি নিয়ে সমালোচনা করে আমার বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়েছে বিষয়টি আমি দেখেছি।’