রাতভর গণধর্ষণের শিকার তরুণী

ভারতে মধ্যপ্রদেশে গত বুধবার রাত 8 টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে।সাত জন মিলে পালা করে অত্যাচার চালালো ১৮ বছরের তরুণীর ওপর। তার মধ্যে তিনজন নাবালক।
পুলিশ এখনো পর্যন্ত তিন নাবালক সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। পলাতক দুই।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ ভাইয়ের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন ১৮ বছরের তরুণী। গ্রামের কাছেই সাত জন ধর্ষক তাদের ঘিরে ধরে। প্রাথমিক হাতাহাতির পরে ২১ বছরের ছেলেটিকে কুয়োয় ফেলে দেয় ধর্ষকরা। এর পর গোটা রাত ধরে এক এক করে ধর্ষণ করে ওই তরুণীকে। ভোরের দিকে জ্ঞান হারান তরুণী। ধর্ষকরাও পালিয়ে যায়। পরে জ্ঞান ফেরার পরে ওই তরুণীই ওই অবস্থায় কুয়ো থেকে উদ্ধার করেন ভাইকে। দু’জনে ফিরে যান গ্রামের বাড়িতে।
স্থানীয় কোতওয়ালি থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পরেই আশপাশের এলাকা থেকে পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু দুই জন পালিয়েছে।
থানার অফিসার রাজেন্দ্র ধ্রুবের বক্তব্য, ”সাতজন অভিযুক্তকেই চিহ্নিত করা গিয়েছে।”
পুলিশের দাবি দুই একদিনের মধ্যেই পলাতক দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। গোটা এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ধর্ষিতা মেয়েটি মানসিক এবং শারীরিক ভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।

এই ঘটনার জেরে নাগরিক সমাজে এক অন্য প্রশ্ন উঠেছে। নির্ভয়া-কাণ্ডে সব চেয়ে ভয়াবহ কাণ্ড ঘটিয়েছিল যে, নাবালক হওয়ার কারণে বছরখানেকের মধ্যেই সে মুক্তি পেয়ে গিয়েছে। এই ঘটনাতেও তিন জন নাবালক যুক্ত। তাদেরও কড়া শাস্তি হবে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ইদানীং ধর্ষণের ঘটনায় বহু নাবালক জড়িয়ে পড়ছে। ভয়াবহ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে তারা। তা হলে কি আইনের আরও বদল দরকার?
এ বিষয়ে নাগরিক সমাজের মধ্যে দু’টি মত খুব প্রবল ভাবে রয়েছে। এক, ধর্ষণের ঘটনায় সাবালক এবং নাবালকের তফাত করা ঠিক নয়। এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ করলে কঠিনতম শাস্তি হওয়া উচিত। আবার অন্য পক্ষের যুক্তি, কঠিনতম শাস্তি হলেই যদি অপরাধপ্রবণতা বন্ধ হতো, তা হলে নির্ভয়া-কাণ্ডে অভিযুক্তদের ফাঁসি হওয়ার পরে এমন ঘটনা আর ঘটতো না। অন্তত প্রবণতা কমতো। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। কিছু দিন আগেই উত্তরপ্রদেশে এমনই ঘটনা ঘটেছে। অপরাধীদের মনস্তত্ত্ব এবং সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন স্মিতা চক্রবর্তী।
তিনি জানিয়েছেন, ”আইন দিয়ে এ ধরনের অপরাধ রোখা যায় না। এর জন্য সামাজিক পরিবর্তনের প্রয়োজন। স্কুল স্তর থেকে ছাত্রছাত্রীদের মানসিকতা পরিবর্তন করা দরকার। বাস্তবে তা ঘটে না। ফলে অপরাধও কমে না। নাবালকরা বার বার জড়িয়ে পড়ছে।”
গোটা ভারত জুড়ে লকডাউন চলছে। তার মধ্যেই এমন ঘটনা হতবাক করে দিয়েছে সকলকে।