পাহাড়ি এলাকার বিপন্নতা

করোনাভাইরাসের কারণে যখন সারা দেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে, তখন পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় খাবার না পেয়ে গরিব মানুষগুলোর বন্য আলু খেয়ে বেঁচে থাকার খবরটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ৮ এপ্রিল ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বান্দরবান জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলার গরিব মানুষ খাদ্যসংকটে আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় বছরের এপ্রিল-মে মাসে খাবারের সংকট দেখা যায়। এসব এলাকার বাসিন্দারা জুমচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এবার তাঁরা দ্বিমুখী সমস্যায় পড়েছেন। জুমের ফলন ভালো হয়নি। তদুপরি লকডাউনের কারণে হাটবাজার বন্ধ থাকায় উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না।  পত্রিকার সচিত্র খবরে দেখা যায়, লামা উপজেলার কাপ্রু পাড়ার বৃদ্ধা পেকরু ম্রোর পরিবারের লোকজন ভাতের বদলে বনের আলু খাচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য, যেদিন জঙ্গলে বুনো আলু পাওয়া যায় সেদিন তা তুলে খান, আর  যেদিন পান না সেদিন তাঁদের অভুক্ত থাকতে হয়। শুধু পেকরু ম্রোর পরিবারই নয়, এলাকার আরও ৩০টি পরিবার একইভাবে দিন কাটাচ্ছে। কাপ্রু পাড়ার কার্বারি ইং চোং ম্রো বলেছেন, করোনার হাত থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় লোকজন পাড়া অবরোধ করে রেখেছেন। ফলে কেউ পণ্য বিক্রি করতে কিংবা খাবার আনতে বাইরে যেতে পারছেন না। আবার প্রতিবেশীদের মধ্যে কেউ সহায়তা করবেন, সেই সামর্থ্যও তাঁদের নেই। এ ছাড়া জেলার থানচি, আলীকদম, রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় এবং রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অভাবের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলেও গণমাধ্যমে খবর এসেছে। থানচির সেকডু মৌজার হেডম্যান তোয়াই চিংয়ের দাবি, সেখানে মানুষ কষ্টে থাকলেও তাঁরা কোনো সরকারি সহায়তা পাননি।  বাস্তবতা হলো, ৮ এপ্রিল পত্রিকায় খাদ্যাভাবের খবর প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজখবর নেননি। পরে স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়ে। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। আর নগদ দেওয়া হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। এটি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে খাবারসহ অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো হোক। বছর দুই আগে সাজেকে যে দুর্ভিক্ষাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়।